বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৪০ অপরাহ্ন
Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০, ১১:২৫ PM
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

তারুণ্যের বাতিঘর ডিআরইউ

গণমাধ্যমের সম্মুখসারির যোদ্ধা হলো রিপোর্টার ও ফটোগ্রাফার। দরকারি ছবিটা হয়ে গেলে সটকে পড়তে পারেন ফটোগ্রাফার। কিন্তু, রিপোর্টারের কাজের শেষ নেই। কি ঘটতে পারে, ঘটনার বিবরণ, ঘটনার প্রতিক্রিয়া এভাবে চলতেই থাকে। এ কারণেই সারাক্ষণ সংবাদ স্রোতে সাঁতার কাটতে হয় রিপোর্টারকে। সেজন্যই গণমাধ্যমের প্রাণ হলো রিপোর্টার। শুধু বয়স বিবেচনায় নয়, কাজের ধরণেই এটি একটি চিরতরুণ পেশা। সংখ্যায় কম হলেও বেশি বয়সী রিপোর্টারও আছেন। কিন্তু, ছুটোছুটি ও দক্ষতায় প্রতিদিন তারুণ্যের প্রমান দিয়েই টিকে আছেন পেশায়। তাদেরই প্রাণের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি– ডিআরইউ।

ডিআরইউ একটি দ্রোহের নাম। পেশাগত কাজে দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও তথাকথিত অভিভাবকদের উন্নাসিকতার জবাবে এর জন্ম। দিনভর সচিবালয় থেকে গরিবালয়, বিএনপি থেকে ডিএমপি, সদরঘাট থেকে খেলার মাঠ ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত রিপোর্টারের কাছে পরম নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে ডিআরইউ। সেগুন বাগিচার মায়াবী এক চিলতে ক্যাম্পাসে প্রাণবন্ত আড্ডায় তারা ফিরে পায় সঞ্জিবীনী শক্তি। দীর্ঘ ২৫ বছরের পথ চলায় পরিণত হয়েছে রিপোর্টারদের বিশ্বস্ত ঠিকানায়।

শুরু থেকেই পেশার মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও উৎকর্ষতা অর্জনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠাতা নেতৃবৃন্দ। সেই ধারাবাহিকতায় যোগ হয় নানা আনুষ্ঠানিকতা। সংগঠনের নিজস্ব অনুষ্ঠান ছাড়াও জাতীয় দিবস, বিভিন্ন উৎসব-পার্বণও আয়োজন করে আসছে ডিআরইউ। এছাড়া, প্রতিদিন ক্যান্টিনে প্রায় চার’শ রিপোর্টার নাম মাত্র দামে লাঞ্চ করে থাকে। যদিও কেউ কেউ (না জেনে, না বুঝে) দোষ খুঁজতে বলে থাকেন, ভাতের হোটেল চালানো ছাড়া আর কি করে ডিআরইউ? সিন্ডিকেট বাণিজ্যের জবাবদিহিহীন এই বাজারে এটা যে কতো বড় সাপোর্ট, একমাত্র উপকারভোগীই বুঝে। কোনো নাক উঁচু তারকা সাংবাদিক বুঝবেন না। এছাড়া, স্ত্রী-সন্তানদের জন্যও থাকে ফ্যামেলি ডে, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, শিক্ষা বৃত্তিসহ বছরজুড়ে নানা আয়োজন।

ঝুঁকি নিরসনে একতাবদ্ধ থেকে ডিআরইউ আজ এক আত্মপ্রত্যয়ী একক সাংবাদিক সংগঠন। বিভাজনের এই যুগে শত প্রলোভন, অশোভন আলাপন উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছে কন্টকিত পথ মাড়িয়ে। শুধুই বাণিজ্য চিন্তা মাথায় নিয়ে অনেকে “রাজনীতি ও ধূমপানমুক্ত” শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে। চটকদার এই শ্লোগানের আদলে ডিআরইউকে চিন্তা করে অনেকে। রাজনীতি সচেতন থাকা আর রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া এক কথা নয়। দেশের প্রতিটি মানুষেরই রাজনীতি সচেতন হওয়া উচিৎ। কেননা, রাজনীতিই রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতি, শিক্ষা, আদর্শ, চাকরি, বাণিজ্য, উন্নয়ন, বৈদেশিক সম্পর্ক– এমনকি মানুষের রুচি পর্যন্ত গঠন করে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে না বুঝে অনেকে উপেক্ষা করে। ব্যক্তিগত সম্মৃদ্ধ অবস্থান থেকে গর্বভরে রাজনীতিকে ঘৃণা করে। দুষ্টু রাজনীতি ব্যবসায়ীর কারণে রাজনীতিকে ভুল বুঝে। দেশপ্রেমিক হতে হলে অবশ্যই রাজনীতিটা বুঝতে হবে। তবে, সেটা দলীয় রাজনীতি নয়। মানুষের মঙ্গলের জন্য নীতির রাজা বা সেরাটাকেই বেছে নিতে হবে। জাতীয় জীবনে সে চর্চা থাকতে হবে।

সংগঠনের নিজস্ব গঠণতন্ত্র আছে। যার আলোকে ডিআরইউ চলে। কোনো দলীয় আদর্শের ভাবাবেগে নয়। তবে, তিন বছর ধরে ডিআরইউ নেতৃত্ব বাছাইয়ে দলীয় রাজনীতির প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে গেছে। আগে এরকম দেখা যায়নি। সৌজন্যতার মধ্যে রাজনীতি সচেতনতার চর্চা হতো। সব কিছু ভেঙ্গে পড়ার মিছিলে যোগ দেয়ার অশনি সংকেত এটি। রজত জয়ন্তির মাহেন্দ্রক্ষণে এখান থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। এবং সেটা সম্ভব করবে সংগঠনের মূল শক্তি, সদস্যরাই। ডিআরইউ সদস্যরা কখনো ভুল করেনা। কারো কথায় অন্যের লোককে কখনো নির্বাচিত করেনা তারা। জল্পনা-কল্পনা থাকলেও, দিন শেষে নিজের প্রতিনিধি ঠিকই খুঁজে নেয়। এখনই, দলীয় রাজনীতির সঙ্কীর্ণ কালো পর্দা সরিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকানোর সময়। ২৫ বছরে অনেক অর্জন জমা হয়েছে সাফল্যের ঝুলিতে। এখন রিপোর্টারদের আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সাথে ভাবের আদান-প্রদান জরুরি। মতবিনিময়, প্রশিক্ষণ বিনিময়, ভ্রমণ বিনিময় শুরু করতে হবে। এজন্য, মেধাবী ও তারকা রিপোর্টারদের নেতৃত্বে আসা দরকার। শুধু নিজেদের ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়ে ব্যস্ত না থেকে সংগঠনেও ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। না হলে মেধাহীন, দলবাজ, দুর্বল নেতৃত্ব জেঁকে বসবে প্রাণের সংগঠনে। রজত জয়ন্তি হোক ডিআরইউ’র স্বর্ণ যাত্রা।

 

লেখক: ইলিয়াস হোসেন

সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিয়ন। ১০. ১০. ২০২০ এসএটিভি, এসএ পয়েন্ট, কাকরাইল, ঢাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar