বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানাতে হবে: গওহরডাঙ্গার মুফতি উসামা আমীন নরসিংদীর কমিশনার মানিক মিয়ার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) বিশ্বনবী (সা.) সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত নবী (সা.)-এর অবমাননার প্রতিবাদে ফ্রান্সের পণ্য বর্জন করুন : জাতীয় জনতা ফোরাম ফাইজার ২০২০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ মিলিয়ন টিকার ডোজ সরবরাহ করতে পারবে সবুজ সাথী আন্ত মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের সার্ভিস চার্জ প্রত্যাহার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি নিউইয়র্ক গভর্নরের সর্বোচ্চ সম্মান পেল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুবর্ণ এবার এরদোয়ানের বিতর্কিত কার্টুন প্রকাশ করলো শার্লি হেবদো পূজার ছুটি শেষে হিলি স্থলবন্দরে ফের আমদানি-রপ্তানি শুরু
Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ১২:৩৫ PM
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

যে ৫ কারণে ট্রাম্প আবারও জিততে পারেন

মোঃ নাসির, নিউ জার্সি, আমেরিকা থেকে ঃ খুব কাছে চলে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ভোটের লড়াইয়ের আগে এখন পর্যন্ত যেসব জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে তাতে ক্ষমতাসীন ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে ঢের এগিয়ে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন।

 

নির্বাচন উপলক্ষে এবার রেকর্ড পরিবার তহবিলও সংগ্রহ করতে পেরেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে প্রচারণার শেষ সময়টায় অর্থনৈতিকভাবেও অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে তারা; যার মানে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সপ্তাহগুলোতে সব ধাক্কা সামাল দিতে পারবেন বাইডেন। এদিকে, এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের হারের সম্ভাবনা নিয়ে নির্বাচন বিশ্লেষকদের ধারণা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ন্যাট সিলভার ফাইভ থার্টিএইট ডটকমের ব্লগের সম্প্রতি এক জরিপের ফল প্রকাশ করে। তাতে বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ, ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ জরিপে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের জয়ের সম্ভাবনা ৮৩.৫ শতাংশ।

 

জরিপের ফলগুলো সত্যি হলে বাইডেন হবেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে জরিপের ফলগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে গত নির্বাচনের ঘটনাগুলো। হেন কোনো জরিপ ছিল না যে, যেখানে পিছিয়ে ছিলেন তখনকার ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। কিন্তু সবকিছু পাল্টে যায় ভোটে। হিলারির বিপক্ষে ভূমিধস জয় পেয়ে মসনদে বসেন ট্রাম্প। এবারও কি আগের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি করবেন ট্রাম্প? হ্যাঁ, জানুয়ারিতে যদি রিপাবলিকান এই নেতাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে দেখা যায় তাহলে এই জয়ের পেছনে থাকতে পারে পাঁচটি কারণ।

আরও একটি বিস্ময়

চার বছর আগে নির্বাচনের মাত্র ১১ দিন আগে এফবিআই’র পরিচালক জেমস কোমেই হঠাৎ করেই প্রকাশ করেন যে, হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আর এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সপ্তাহের মধ্যেই যেন ঘুরে যায় পাশার দান। প্রতিপক্ষের এমন দুর্নামে প্রাণ ফিরে পায় ট্রাম্প শিবির। সব জরিপের ফল মিছে প্রমাণ করে জয়মাল্য পরেন ট্রাম্প। এবারের নির্বাচনের আগে আগেও বাইডেন শিবির হিলারির মতোই একটা ধাক্কা খেয়েছে। সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, রহস্যজনক একটি ল্যাপটপে এমন একটি ই-মেইল পাওয়া গেছে, যাতে ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির লিয়াজোঁ হিসেবে কাজ করা ছেলে হান্টার বাইডেনের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় অসৎ উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করেছেন জো বাইডেনের। নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে খুব বিষয়টি খুব প্রচারণায় মুখর ট্রাম্প শিবির।

 

এ ছাড়া ট্রাম্প দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, এটা কেবল বাইডেনের কুকীর্তি প্রকাশের শুরু। ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় তিনি যেসব অন্যায্য কাজ করেছেন সেসব সরাসরি প্রমাণসহ প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। তাই হলে নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তে ঝড় বইয়ে যেতে পারে বাইডেন শিবিরে। আর তাতে পোয়াবারো হবে ট্রাম্পের।

 

সব জরিপ ভুল

দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই নানা জরিপে দেখা যাচ্ছে, বাইডেন ট্রাম্প থেকে খানিকটা এগিয়ে। এমনকি নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতেও জরিপের ফলে তাই দেখা যাচ্ছে।

 

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগেও এমনটা দেখা গিয়েছিল। কোথাও এগিয়ে নেই ট্রাম্প। সব জায়গায় হিলারির জয়জয়কার। শেষ পর্যন্ত যা হলো তা সবারই জানা। নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের বোবা করে দিয়ে আশাতীতভাবে জিতে গেলেন ট্রাম্প। প্রমাণিত হয় যে, জরিপের ফলাফল ব্যালটে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

 

দারুণ একটি নির্বাচনী বিতর্ক

অনুষ্ঠেয় নির্বাচন উপলক্ষে দুই সপ্তাহে আগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ট্রাম্প-বাইডেন মধ্যকার তিন বিতর্কের প্রথম বিতর্ক। তাতে অনেকটাই ব্যাকফুটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান এই প্রার্থী ছিলেন আক্রমণাত্মক। নারীদের নিয়ে মন্তব্য ছিল বিরূপ। অন্যদিকে দাপট দেখিয়েছেন বাইডেন।

 

এর মধ্যে দুই প্রার্থী মধ্যকার দ্বিতীয় বিতর্কটা বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্প করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ভার্চুয়াল মাধ্যমে তা আয়োজনের ব্যবস্থার কথা বলা হলেও এভাবে বিতর্কে অংশ নিতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

আগামী বৃহস্পতিবার তৃতীয় ও শেষ বিতর্কে বাইডেনের মুখোমুখি হবেন ট্রাম্প। এই কথার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে বন্দী করতে পারলে নির্বাচনের আগে ভালো একটি প্রভাব তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে তার।

 

দোদুল্যমান ভোট

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে এমন অনেকগুলো অঙ্গরাজ্য রয়েছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, এসব অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটিতে ট্রাম্প এগিয়ে অথবা টাই টাই অবস্থায় আছেন ট্রাম্প। রাজ্যগুলোর ভোট পক্ষে নিয়ে আসতে পারলে তা ইলেক্টোরাল কলেজগুলোর অঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে রিপাবলিকানরা। যদিও আগের বারের নির্বাচনে মোট ভোটে হিলারি থেকে ট্রাম্প পিছিয়ে ছিলেন, কিন্তু ইলেক্টোরাল সংখ্যায় এগিয়ে থেকে জিতে যান রিপাবলিকান এই প্রার্থী।

 

গত নির্বাচনে মিশিগান ও উইসকনসিনের মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার মনে হচ্ছে পারবেন না। পেনসেলভানিয়া ও ফ্লোরিডার মতো গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান বাকি অঙ্গরাজ্যগুলোতে জয় পেয়ে গেলে হোয়াইট হাউসে থাকার মতো প্রয়োজনীয় ২৭০টি ইলেক্টোরাল পেয়ে যেতে পারেন ট্রাম্প। আর যদি ট্রাম্প ও বাইডেনের প্রত্যেকে সমান ২৬৯টি ইলেক্টোরাল পান তাহলে এই টাইয়ের সমাধান হবে প্রতিনিধি পরিষদের ‘স্টেট ডেলিগেশন’ কর্তৃক। আর এসব ‘স্টেট ডেলিগেশন’ ট্রাম্প ঘেঁষা হওয়ায় পার পেয়ে যেতে পারেন তিনি।

 

বাইডেন প্রচারণা তালগোল পাকালে

এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা ভালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন জো বাইডেন। কিন্তু করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব বা অন্য কোনো কারণে শেষ মুহূর্তে যদি ডেমোক্রেটিক এই প্রার্থী তালগোল পাকিয়ে বসেন তাহলে পোয়াবারো হতে পারে ট্রাম্পের।

 

বাইডেন এমনিতেই অনেকটা প্রচারবিমুখ, হঠাৎ বড় ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, সমস্যায় পড়তে পারেন সেসব জায়গা এড়িয়ে চলা লোক। বাইডেন শেষ দিকে না এমন কোনো কাণ্ড করে বসেন, যা তাকে পিছিয়ে দেয়! যদিও বাইডেন এখন পর্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অবশ্য শেষ সময়টায় সময়ের বিপরীতে দৌড়াতে হবে তাদের।

 

তবে টানা নির্বাচনী প্রচারের ফলে বয়সের কারণে ইদানীং অনেকটাই ক্লান্ত দেখাচ্ছে বাইডেনকে। বয়সের কারণে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শারীরিক সক্ষমতা আছে কি-না।

 

অন্যদিকে, এই সম্ভাবনা নেই ট্রাম্প শিবিরে। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন থাকায় হোয়াইট হাউসের পুরো সুবিধা নিয়েই পুরোদমে প্রচারণা চালাচ্ছে তারা। শেষ সময়টায় বাইডেন শিবিরে কোনো সমস্যা হলে তা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar