রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ফেরদৌস কোরেশির দল পিডিপির নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ না করায় বিইআরসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল সিঙ্গাপুরে করোনা আক্রান্ত নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর দেহে অ্যান্টিবডি ঘুষখোরদের পরিণতি সুখকর হবে না : দুদক চেয়ারম্যান বহিষ্কৃত যুবলীগের নেতা কাজী আনিসের স্ত্রীর জামিন প্রাইভেট ও সরকারি হাসপাতাল মিলেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথ্যসচিব কামরুন নাহারের বিদায় অনুষ্ঠান সরকার কৃষির উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: পরিবেশ মন্ত্রী ঢাকা সফরে আসছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী : কাঠমান্ডু পোস্ট মেহেদির রঙ না মুছতেই খুন হলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা
Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ০৮:৫০ AM
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ পরীক্ষা কঠিন হচ্ছে

মোঃ নাসির, নিউ জার্সি, (আমেরিকা) প্রতিনিধিঃ বদলে যাচ্ছে সিটিজেনশিপ বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার আগের নিয়মকানুন। এতে আসছে নানা পরিবর্তন। বাড়ছে প্রশ্নের সংখ্যা এবং ধরনও। আগে কেবল হ্যাঁ-নার মাধ্যমে বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হলেও এখন অনেক প্রশ্নের ব্যাখ্যা বা বর্ণনা দিতে হবে। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে। তবে এর আগে যারা আবেদন করবেন, তারা আগের নিয়মেই পরীক্ষা দিতে পারবেন। যারা ১ ডিসেম্বর কিংবা এর পরে আবেদন করবেন, তাদের নতুন নিয়মে পরীক্ষা দিতে হবে।

এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা ইতিমধ্যেই সিটিজেনশিপ হওয়ার যোগ্য হয়েছেন কিংবা ১ ডিসেম্বরের আগে সিটিজেনশিপ আবেদন করার যোগ্য হতে যাচ্ছেন, তাদের বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করা উচিত। কারণ এখন যে পরিমাণ সিটিজেনশিপ দেওয়া হচ্ছে, আগামীতে সেটা আরো কমানো হতে পারে। মূলত এ কারণেই কঠিন করা হচ্ছে নিয়ম। যারা ভালো ইংরেজি জানেন ও বোঝেন, তাদের সিটিজেনশিপ পাওয়ার পথ প্রশস্ত থাকবে। অল্প ইংরেজি জানা মানুষের পক্ষে সিটিজেনশিপ পরীক্ষায় পাস করা কঠিন হবে।

জানা গেছে, আমেরিকায় যারা গ্রিন কার্ডধারী আছেন, তাদের আগামীতে সিটিজেনশিপ পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে এখনকার চেয়ে বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আগের নিয়মে ১০টি প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারলে পাস করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন আমেরিকান হিস্ট্রি ও পলিটিকস এই অংশে আরো বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নতুন নিয়মে প্রশ্ন করা হবে ২০টি। এর মধ্যে কমপক্ষে ১২টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। নাগরিক পরীক্ষাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব ও ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) দ্বারা পরিচালিত একটি প্রক্রিয়া।

ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব হওয়ার জন্য এই পরীক্ষা প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি আবেদনকারীরা বেসিক ইংরেজি পড়া, লেখা ও কথা বলার দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য আরও একটি পরীক্ষায় অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী ১০ বছর পরপর মার্কিন নাগরিকত্ব পরীক্ষায় পরিবর্তন আসে।

আপডেট হওয়া নাগরিক পরীক্ষার জন্য অভিবাসীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গঠনতন্ত্র ও সংবিধানের কাঠামো থেকে শুরু করে ফাউন্ডার ফাদার এবং আমেরিকানদের জড়িত থাকা যুদ্ধ-সম্পর্কিত ১২৮টি সম্ভাব্য প্রশ্ন অধ্যয়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। বর্তমান পুলটিতে ১০০টি প্রশ্ন রয়েছে।

নতুন পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পর্কে ১৩ নভেম্বর টুইট করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৮ সালের প্রশ্নের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা অভিবাসীদের ফেডারেল সরকারের একটি শাখা শনাক্ত করতে বলে। আপডেট হওয়া প্রশ্নটি মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের তিনটি শাখার নামকরণের নির্দেশ দিচ্ছে। সেখানে তিনটি ব্রাঞ্চেরই নাম বলতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সরকারের তিনটি শাখা : নির্বাহী শাখা বা রাষ্ট্রপতি, আইনসভা শাখা বা কংগ্রেস এবং বিচারিক শাখা বা ফেডারেল আদালত। সংক্ষেপে বলা যায় হাউস, সিনেট ও এক্সিকিউটিভ। নতুন প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে : কেন ইলেকটোরাল কলেজ গুরুত্বপূর্ণ? ইউএসসিআইএস অনুসারে সঠিক উত্তর হলো এটি সিদ্ধান্ত নেয় কে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বা এটি রাষ্ট্রপতির পপুলার ইলেকশন এবং কংগ্রেসনাল নির্বাচনের মধ্যে একটি সমঝোতা সরবরাহ করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগের পরীক্ষাটি নতুন পরীক্ষার চেয়ে তুলনামূলক সহজ ছিল। আগামী পরীক্ষাটি কঠিন হবে।

সংশোধিত পরীক্ষাটি আগের পরীক্ষার চেয়ে বেশি কঠিন হওয়ায় অভিবাসীদের পক্ষে মার্কিন নাগরিক হওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একটি গণমাধ্যমে আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের নীতিগত পরামর্শদাতা অ্যারন রেইচলিন-মেলনিক বলেছেন, নাগরিকত্ব পরীক্ষাটি দীর্ঘ ও বেশি কঠিন করার কোনো কারণ নেই। এটি অপ্রয়োজনীয় এবং নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় আরও বেশি ব্যাক লগ এবং বিলম্বের দিকে পরিচালিত করবে।

প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রাক্তন অভিবাসন পরামর্শদাতা ডগ র‌্যান্ডও একমত যে পরিবর্তনগুলো নাগরিক পরীক্ষাকে কঠিন করে তুলবে। প্রথমবার নাগরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে আবেদনকারীরা আরেকবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার পাস করতে না পারলে তিনি গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে থাকতে পারবেন। নতুন এই পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করার ঘোষণায় স্বল্পশিক্ষিত এবং ইংরেজি কম জানা অভিবাসীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar