রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ০৬:৪৫ PM
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

টুকরো-টাকরা ভাবনা যত (৮)

লেখক:/মুহম্মদ আজিজুল হক -চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত।
মক্কা, সৌদি আরব,

কী বিচিত্র সব ধর্ম-বিশ্বাস পৃ্থিবীর মানুষের ! কী প্রগাঢ় ভক্তি, কী অবিচল বিশ্বাসে প্রতিটি ধর্মের মানুষ তাঁদের ধর্মচর্চা করেন। সকলেই মনে করে্ন তাঁর ধর্মটিই একমাত্র সঠিক আধ্যাত্মিক পথ। অন্যরা সব ভুল পথে আছেন। তাঁদের মতো আমিও ভাবি আমার ধর্মই একমাত্র সঠিক ধর্ম। কিন্তু দ্বিধান্বিত হই যখন দেখি বিশ্বাসের প্রগাঢ়তায় ও গভীরতায় এবং ধর্মচর্চার নিবিড়তায় তাঁরা আমার ধর্মের লোকদের থেকে একটুও পিছিয়ে নেই। আমার ধর্মের সঠিকতা নিয়ে আমার আত্মপ্রত্যয়ের অনুরূপ আত্মপ্রত্যয় তাঁদের স্ব স্ব ধর্মের সঠিকতা নিয়ে তাঁদেরও আছে । সুতরাং, নিজ নিজ ধর্ম বিষয়ে সকল ধর্মের মানুষের মানসিক অবস্থা ও অবস্থানের মধ্যে তো কোনো পার্থক্যই নেই। তো তাঁদের অপেক্ষা আমার কী অতিমর্ত্য বা অতিমানবিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আছে যা থেকে আমি নিশ্চিত হতে পারি যে একমাত্র আমার ধর্মই সঠিক? আর সবাই তাঁদের স্ব স্ব ধর্মের প্রতি গভীর বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ভুল?

আমার ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে আমি আমার স্রষ্টার সমীপে কত আর্জি পেশ করি; কত কিছু চাই। তার অনেকগুলি পূর্ণ হয়, অনেকগুলি হয় না। যখন কোনো প্রার্থনা অনুযায়ী কিছু পাই, তখন নিশ্চিত হতে পারি না যে সেটি স্রষ্টার নিকট আমার প্রার্থনার ফলশ্রু্তি; নাকি প্রার্থনা না করলেও তা পেতাম। সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পারি না কখনো। সেভাবে জানার কোনো উপায় কি আছে? আমরা প্রিয়জনকে আমাদের জন্য দোয়া করতে বলি।তাঁরা স্রষ্টার নিকট দোয়া করেনও।

কিন্তু সত্যিই কি দোয়ায় কোনো ফললাভ হয়? আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তা কি সত্যিই মানুষের দোয়া গ্রহণ করেন? নিশ্চিত করে কে বলতে পারেন? আমার মতো সাধারণ মানুষ যাঁরা, তাঁরা আধ্যাত্মিক ও অতিলৌ্কিক বিষয়ে যা কিছু জ্ঞানের অধিকারী তা হয় গ্রন্থনির্ভর অথবা অন্যের নিকট থেকে শ্রুত। এ বিষয়ে তাঁদের নিজস্ব কোনো অভিজ্ঞতা নেই; নেই অপার্থিব কোনো শক্তি যদ্দারা তাঁরা ওসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন। তাঁরা সারা জনম ঐসব বিষয়ে আঁধারে থেকেই যা কিছু আধ্যাত্মিক চর্চা করেন। এ আঁধার তাঁদের জীবন থেকে কোনোদিনই ঘোচে না। আমি তাঁদেরই একজন। আমার জীবনের একটি গভীর ও অতলস্পর্শ অন্তর্দাহ হলো এই যে কোনো এক অজ্ঞাত, অন্ধকারাচ্ছন্ন জগৎ থেকে এ পার্থিব জগতে এসেছিলাম; এখানে অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকেই যা কিছু ধর্মচর্চা করলাম; এরপর আবার সেই অচল, অনড়, নিশ্ছিদ্র আঁধারেই হারিয়ে যাবো। তিমির কখনোই কাটলো না; অন্ধত্ব ঘুচলো না; আলোকিত হলো না কিছুই ! হয়তোবা আলোকিত হবার কোনো সুযোগই নেই; কারো জন্যেই নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar