বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৮:১৭ অপরাহ্ন
Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১, ১০:৪৬ AM
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

মশা মারতে এবার ব্যবহার হবে ড্রোন

রাজধানী ঢাকায় মশা মারতে যখন সব উদ্যোগই প্রায় ব্যর্থ, তখন ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। যেসব এলাকায় করপোরেশনের মশক নিধনকর্মী কিংবা ফগার মেশিন বহনকারী গাড়ি যেতে পারে না সেসব এলাকায় ওষুধ ছিটানো হবে এসব ড্রোনের মাধ্যমে। বিশেষ করে খাল, লেক বা জলাশয়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি। সম্প্রতি ডিএনসিসির বনানী লেকে বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষামূলক অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে এবং এতে সফলতা পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মশা মারতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আসছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি মাস কয়েক অন্তর অন্তর মশক নিধনে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে সংস্থাটি। ব্যবহার করা হচ্ছে দামি ওষুধও। কিন্তু এরপরেও মশার উপদ্রব কমানো যাচ্ছে না।

কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়েও বরং বর্তমানে রাজধানীতে মশা বেড়েছে চারগুণ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কোনোভাবেই মশার উৎপাত নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পুকুর, জলাশয় ও লেকে ড্রোনের মাধ্যমে অ্যাডাল্টিসাইডিং (পূর্ণবয়স্ক মশা নিধন) ব্যবহারের জন্য ড্রোন ব্যবহার করা যায় কিনা সে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

ডিএনসিসি আরও জানিয়েছে, মশা মারার ওষুধ ছিটানো নিয়ে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ড্রোন ডেভেলপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সবকিছু বিশ্লেষণ করে কোম্পানি পরীক্ষামূলক একটি ড্রোন তৈরি করেছে। এটি এক ব্যাটারির মাধ্যমে ২৫ মিনিট, আর দুটি ব্যাটারির মাধ্যমে ৫০ মিনিট উড়তে পারে। পাশাপাশি প্রতি মিনিটে ড্রোনটি পাঁচ লিটার অ্যাডাল্টিসাইডিং ওষুধ ছিটাতে পারবে। প্রাথমিকভাবে এটি ২০ লিটার ওষুধ বহন করতে সক্ষম। প্রাথমিক পরীক্ষায়ও সফলতা দেখছে ডিএনসিসি। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ড্রোন দিয়ে মশা মারার এই উদ্যোগের বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়েদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কিউল্যাক্স মশা একটু বেড়ে গেছে। মশার জন্য কী কী টেকনোলজি ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে আমরা প্রতিদিন নতুন নতুন চিন্তাভাবনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যেসব বড় বড় জলাশয় আছে সেসব স্থানে মাঝখানে আমরা মশার ওষুধ, লার্ভিসাইড ছিটানোর জন্য পৌঁছাতে পারি না। নৌকা দিয়ে যেতে হয়। এসব স্থানে আমরা ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি, যাতে অল্প সময়ে অনেক জায়গায় ওষুধ কাভার করতে পারি। আমরা নাগরিকদের স্বস্তি দিতে চাই। পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করেছি। আগামী ৮ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত যে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে তাতে ড্রোন ব্যবহার করে এর ফলাফল দেখবো। আমরা সব সময় চিন্তা করছি এর জন্য আরও উন্নত প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়।’

মশা মারতে ড্রোন পদ্ধতির ব্যবহার কতটা কার্যকর হবে সে বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ‘ড্রোন ব্যবহার করে মশার ওষুধ ছিটানোর পদ্ধতি বিশ্বের অনেক দেশেই রয়েছে। এখানে মূল বিষয়টা হচ্ছে মশার বংশবিস্তারের স্থানে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া। সেটা যে প্রকারেই হোক আমাদের পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের কিছু কিছু জলাশয় আছে বেশ বড়, যেখানে মশক নিধনকর্মীরা গিয়ে ওষুধ ছিটাতে পারেন না। সেক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারকে আমি পজিটিভভাবেই দেখছি।’

তবে যেসব জলাশয় কচুরিপানায় ভরা সেখানে ড্রোন ব্যবহার করে লাভ হবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ওষুধ যদি কচুরিপানার ওপর পড়ে তাহলে কাজ করবে না। কারণ, ওষুধের কার্যকারিতা থাকে মাত্র সাত দিন। ড্রোন ব্যবহারের আগে অবশ্যই কচুরিপানা পরিষ্কার করে নিতে হবে।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar