বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৭:১৯ অপরাহ্ন
Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১, ১০:২৫ PM
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

কৌশল পরিবর্তন করেছি, দুই সপ্তাহ পর হতে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে আনতে: ব্যারিস্টার শেখ তাপস

আমরা কৌশল পরিবর্তন করেছি। আগামী দুই সপ্তাহ পর হতে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

আজ (বুধবার) দুপুরে পান্থপটথের পান্থকুঞ্জ বক্স কালভার্ট ও পান্থকুঞ্জ অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (সেকেন্ডারি ট্রানস্ফার স্টেশন- এসটিএস) উদ্বোধন শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এই মন্তব্য করেন।

ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এ সময় বলেন, “ঢাকাবাসীকে আমরা একটু ধৈর্য ধারণ করতে অনুরোধ করছি। আমরা কৌশল পরিবর্তন করেছি। এখন আমরা যে কার্যক্রম নিচ্ছি, আমাদের সকালের কার্যক্রম ৪ ঘণ্টায় চলছে, বিকেলের কার্যক্রম আমরা আরও বৃদ্ধি করেছি। সুতরাং আমরা আশাবাদী, আগামী দুই সপ্তাহ পর হতে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে ডেঙ্গুর জন্য আমাদের কৌশল পরিবর্তন করে আবার এপ্রিল থেকে আমরা কার্যক্রম আরম্ভ করব।”

নতুন কৌশল ও কীটনাশক কেন আগে পরিবর্তন করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, “আমি একটি বিষয়ে আপনাদেরকে পরিষ্কার করতে চাই। আমাদের বিশেষজ্ঞ যারা আছেন, তারা ঘটনা ঘটে গেলে অনেক বড় বড় পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু ঘটনা ঘটার আগে আমাদের কি করনীয়, আমাদের কি পদক্ষেপ নিতে হবে, সে রকম পরামর্শ আমরা পাইনা। আমাদেরকে বলা হয়েছিল, ডেঙ্গুর প্রকোপটা যেহেতু আছে, তাই এই কার্যক্রম ডিসেম্বর পর্যন্ত চালিয়ে নিতে হবে। কিন্তু সেই কার্যক্রমটা ভুল ছিল। শীত আসার সাথে সাথেই আমাদেরকে কিউলেক্স মশার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নেওয়া উচিত ছিল। কারণ, পানি বদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল।”

ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, “আমরা যদি খালগুলো আরও দুমাস আগে পেতাম তাহলে হয়তোবা আমরা বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম আরও বেগবান করতে পারতাম। তাহলে ধীরে ধীরে কিউলেক্স মশার প্রভাব কমে যেত আমরা কীটনাশক পরিবর্তন করলে ফলাফল পেতাম।”

ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এ সময় বলেন, “গত জানুয়ারি থেকে আমরা খালগুলো হতে যে বর্জ্য অপসারণ ও চ্যানেল পরিষ্কারকরণ কার্যক্রম শুরু করেছি, সেই কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটার খাল হতে বর্জ্য-পলি অপসারণ করা হয়েছে। এই সময়ে আমরা প্রায় ২ লক্ষ মেট্রিক টন বর্জ্য-পলি অপসারণ করেছি।”

এ সময় একটি পাম্প স্টেশনও পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মেয়র সাহেব উদ্যোগ নিয়ে মেনটেনেন্স করেছেন এবং সেটি সচল করার ব্যবস্থা করেছেন। আমরা আশা করি, এখন যেভাবে কাজ চলছে, মার্চ-এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে অনেক কাজে অগ্রগতি সাধিত হবে।”

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “রাজধানীর খালসমূহের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার পাশাপাশি খালের দুই পাশ অবৈধভাবে দখল করে নির্মিত সব ধরনের অবকাঠামো উচ্ছেদ করা হবে।”

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর, প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, “ওয়াসার নিকট হতে খাল হস্তান্তরের পর থেকেই ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুই মেয়র খালসমূহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, যারা এসব খাল দখল করে দুই পাশে ভবন নির্মাণসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন সেগুলো অপসারণ করছেন।”

মন্ত্রী মোঃ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, “নগরীর সকল খাল রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে দুই মেয়রকে নিয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে অনেকগুলো সভা করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।”

ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি কর্পোরেশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ায় এ মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, “এখন অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স মশা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মশাগুলো খুব বিপদজনক নয়। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা সবাই মিলে এই সমস্যা থেকে নগরবাসীকে পরিত্রাণ দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঢাকা শহরের খাল-নালা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে পারলে এসব মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে অনেকাংশে মুক্তি দেয়া সম্ভব।”

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম ও ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এর আগে সকাল সোয়া দশটা হতে জিরানী খালের নন্দীপাড়া ব্রিজ অংশ, খিলগাঁও-বাসাবো, মান্ডা খাল, জিরানী খাল ও সেগুনবাগিচা খালের সংযোগস্থলের সুখনগর খাল, টিটিপাড়া পাম্প স্টেশন, শ্যামপুরের বউবাজার, সালাউদ্দিন স্কুল, জিয়া সরণি, কাজলার পাড় এলাকায় চলমান বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা-৪ সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ বদরুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী রেজাউর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জাফর আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুন্সি মোঃ আবুল হাশেম, কাজী মোঃ বোরহান উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar