বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১, ১০:৩৯ AM
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

ওরে পাখি (Ode to a bird)

(অনুবাদঃ আজিজ হক (চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত)

ওরে পাখি, চৈত্রের এই উথাল সমীরে
প্রকৃ্তি উতল যখন নৃত্যগীতিতানে,
বোসে আমি হাসপাতাল অলিন্দে
দেখছি তোমার উচ্ছল ওড়াউড়ি,
তোমার মুখর চপলতা, ডাকাডাকি;
বিস্মৃত হয়ে আমার সব শারীরিক রুগ্নতা।
তুমি উড়িছো নাচিছো নিয়ে শত সখীরে
থেকে থেকে ঐ শুনি কোকিলের টু-উ-উ-হ ধ্বনি
সঙ্গীতের রিফ্রেইন যেন।

এই হাসপাতালের বিশাল চত্বরে
যুদ্ধবিমানের মতো চড়িছো ঊর্ধাকাশে
পড়িছো ফের নিম্নমুখে পাকা ডুবুরির মতো
অথৈ বায়ুর সাগরে। তোমার সাথে সোৎসাহে
ওড়ে নারকোলবৃক্ষসারি ডানামেলে সারাদিন।
বৃক্ষশাখে হাওয়ার দোলা, পাখির কাকলী,
মানুষের আসাযাওয়া চলে কেবলি
প্রশস্ত এ্যভিনিউয়ের ফুটপাথ ধরি,
চারিদিকে কী মদির মুখর চঞ্চলতা।

কোনোই ভাবনা নেই তোমার, হে পাখি,
নেই ভূত ও ভবিষ্যৎ চিন্তন। তুমি বাঁচো
বর্তমানে শুধুই। মৃত্যুচিন্তা তোমাকে
ছোঁয় না, করে না বিষণ্ন।
মৃত্যু বোলে যে কিছু আছে
তাও কি তুমি জানো? নাকি মানো?
অথচ,
বিমূঢ় অস্থিরতায় আমি মুমূর্ষু মানুষেরে দেখিয়াছি,
দুঃসহ বিবশ ব্যথায় আমি মৃত্যুর মুখ চিনিয়াছি।

জানো কি তুমি পাখি তোমার ঐ ভাসমান ডানার তলে
এ হাসপাতালের অগণ্য কক্ষ ও হলে অগণিত রোগাতুর মানুষ
করে দিনাতিপাত কী দুর্বিসহ আর্তনাদে,
প্রতিদিন প্রতিরাতে?
নাহ, তোমার ওসব হয় না জানতে; মানুষের সীমাহীন
ভোগান্তি, মানুষের অন্তিম পরিনতি।
তবুও,
আমি তোমার আনন্দে সংক্রমিত; ভুলে রুগ্নতা বেদনাক্লেশ
এই ক্ষণে নিসর্গের এই নান্দনিক মেলায়
বসন্তের এই উথাল সমীরে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar