মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ১০:৩২ অপরাহ্ন
Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১, ০৮:১২ AM
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

দুর্বল অনুমিতি এবং বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা কোভিডকালিন বাজেট বাস্তবায়নকে একটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিতবাজেটবাংলাদেশের ৫০ তম বাজেট। এটি চলমান করোনা অতিমারীর সময়ের দ্বিতীয় বাজেট। এই বাজেটটি এমনএকটি সময়েউপস্থাপিতহলো, যখনবাংলাদেশএখোনো করোনার প্রভাবথেকে মুক্ত হতে পারেনি । করোনার অভিঘাত আমরা এখোনো অনুভব করছি।

গত২০২০-২১অর্থবছরেরবাজেটবাস্তবায়নেরসময়কালেওকরোনারসংক্রমণেরঅনেকপ্রতিক্রিয়াদেখা গেছে।এই প্রেক্ষিতে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:(১)সকলকে টিকা দানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা করাসহ স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন; (২). সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়িয়ে খাদ্যনিরাপত্তানিশ্চিত করা; (৩). সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা; (৪) সর্বোপরি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা।

২০২০-২১ অর্থবছরে সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে। যেমনরাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ঘাটতি; সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে দূর্বলতা; প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতি; বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচী বাস্তবায়নের নিম্নগতি; সরকারি ব্যয় লক্ষ্যমাত্রার চাইতে নিচে থাকার কারনে বাজেটঘাটতি প্রাক্কলিত সীমার নিচে থাকা; শিল্প উৎপাদন কম হওয়া, বিশেষ করে ছোট শিল্পের ক্ষেত্রে;কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী খাদ্য মূল্যস্ফীতি।

অন্যদিকে, কিছু ইতিবাচক দিকওলক্ষ্য করা গেছে।যেমন,রপ্তানিএবংআমদানিকিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে; রেমিট্যান্সপ্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী;লেনদেন ভারসাম্যেরঅবস্থাস্বস্তিদায়ক; মুদ্রারবিনিময়হারস্থিতিশীল এবং বৈদেশিকমুদ্রাররিজার্ভবেড়েছে।

এই প্রেক্ষিতে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে যে বিষয়গুলো জায়গা পাওয়ার কথা ছিল তার অনেকগুলোই দেখা যায়নি। প্রাধিকারগুলো এবং করোনার প্রেক্ষিতে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়া হয়েছ খুব কম।

জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক, ড. ফাহমিদা খাতুন। বৃহস্পতিবার, ৩ জুন ২০২১ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে মাননীয় অর্থমন্ত্রী ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করার পর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেয় সিপিডি।

আগামী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.২ শতাংশধরা হয়েছেসরকার আগামী অর্থবছরে অনেকটা স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে। এই প্রবৃদ্ধি হতে হলে আগামী অর্থবছরে অনেক বেশী বিনিয়োগ হতে হবে। সরকারী ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ না বাড়লে প্রবৃদ্ধি কোথা থেকে হবে স্পষ্ট নয়।

রাজস্ব আহরনের ক্ষেত্রে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের সমান রাখা হয়েছে। কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রাও কিভাবে পুরণ হবে আমাদের জানা নেই। বর্তমান পর্যায়ের সক্ষমতা দিয়ে জাতীয় বোর্ডের পক্ষে এটি অর্জন করা সম্ভব নয়।রাজস্বের ক্ষেত্রে পদক্ষেপগুলো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয় বরং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে। তাদের জন্য কর ও মূল্যসংযোজন করে যে ছাড়গুলো দেয়া হয়েছে সেগুলোকোভিডকালে ব্যবসাকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। একইসাথে, ক্ষুদ্রউদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার বিষয়টিও ভাল পদক্ষেপ। তবে ব্যক্তি-করের ক্ষেত্রে, নিচের দিকে আয়মুক্ত করের সীমা বাড়ানো হয়নি।এটি করলে সাধারণ মানুষের হাতে খরচ করার এবং বিনিয়োগযোগ্য অর্থ আসতো। কেননা এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হোল মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়ানো।

সরকারী ব্যয়ের বর্ধিত বরাদ্দের বড় অংশ জনপ্রশাসনের জন্য দেয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে হবে এবং অনুন্নয়নবা পরিচালনা ব্যয় সংকোচিত করতে হবে।এ থেকে যা সাশ্রয় হবে তা দিয়ে আমরা বিনিয়োগ করতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবো।

ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন আগের বছরগুলোর চাইতে কম। এটি বাস্তবায়নের দুর্বলতাকে প্রকটভাবে তুলে ধরছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে বেশী।তবে, ঋণের বোঝা যাতে না বাড়ে সেটির দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে আমরা এখন স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে আছি, সেটি বজায় রাখতে হবে।

খাতওয়ারীপ্রাধিকারেরক্ষেত্রেসবারআগেআসেস্বাস্থ্যখাত। মোট বাজেটের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্ধ ২০২১ অর্থবছরে ছিল ৫.১৫% যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ অর্থবছরে হয়েছে ৫.৪২%। কিন্তু এই বরাদ্ধকৃত অর্থ ২০১০ অর্থবছর অর্থাৎ যখন মহামারি ছিল না তখনকার বরাদ্ধ ৬.১৮% অপেক্ষা কম।স্বাস্থ্যখাতেরজন্যমূলবিষয়টাহচ্ছেটিকাদান।এইকরোনারপ্রার্দুভাবকতদিনথাকবেআমরাজানিনা।করোনাথেকেমুক্তিনাপেলেঅর্থনীতিতেচাঞ্চল্যফিরেআসবেনা।সেজন্যযারাযোগ্যতাদেরপ্রত্যেককেটিকাদিতেহবে।বাজেটেএজন্যদশহাজারকোটিটাকাবরাদ্দকরাহয়েছেকিন্তুএটাপর্যাপ্তনয়।বাজেটেস্বাস্থ্যখাতেবরাদ্দগতবছরেরমতইএবংএরওআগেরবছরেরমতইরয়েছে।গত২০২০-২০২১অর্থবছরেজিডিপি’র০.৯৫শতাংশছিল, এবছরওতাইআছে।অর্থাৎকিনাযখনআমাদেরস্বাস্থ্যখাতেবরাদ্দদেয়াসবচেয়েবেশীপ্রয়োজন তখন তাতে বরাদ্দ বাড়ছে না। এখনটিকাদানকর্মসূচি, হাসপাতালবেড, আইসিইউ, টেস্টিং, অক্সিজেনইত্যাদিরজন্যবরাদ্দদরকার।ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীইত্যাদিরজন্যওবরাদ্দদরকার।প্রশ্নহচ্ছে, বরাদ্দদিলেওসেটাবাস্তবায়নহবেকিনা।কারণআমরাদেখলামযেগতঅর্থবছরেবাস্তবায়নেরহারস্বাস্থ্যখাতেসবচেয়েকমছিল।সুতরাংঅর্থবরাদ্দকরেওলাভনেই।সেজন্যইআমরাবলছি, একদিকেস্বল্পকালীনঅর্থাৎএইমুহূর্তেপর্যাপ্তঅর্থরাখাএবংপাশাপাশিএইঅর্থটাযাতেসুচারুভাবেএবংমানসম্পন্নভাবেব্যবহারহয়সেজন্যমধ্যমেয়াদেসংস্কারকাজগুলিচালিয়েযেতেহবে।স্বাস্থ্যখাতকেপুরোঢেলেসাজানোরকাজটাএখনিকরতেহবে।গতএকবছরেআমরাএধরণেরকোনউদ্যোগদেখতেপাইনিযেটাকিনাখুবইদুঃখজনক।

সামাজিকনিরাপত্তাখাতকেও আমরা প্রাধিকার খাত মনে করি।সামাজিকনিরাপত্তাখাতেকিছুবরাদ্দ বেড়েছে। তবেআগেরমতইসেখানেসরকারিকর্মচারীদেরপেনশনরয়েছে।তাই এটাকে যত বড়দেখাযাচ্ছেআসলেসেটাএতটাবড়নয়।

তাই মোটা দাগে, একদিকেকোভিডকেমোকাবেলাকরা,অন্যদিকেকোভিডথেকেঅর্থনীতিকেপুনরুদ্ধারকরারজন্যযেবাজেটটিপ্রয়োজনছিলসেটাআমরালক্ষ্যকরিনি।সেটিএকবছরেরবাজেটনয়।সেই বাজেটেআগামীকয়েকবছরেরস্বাস্থ্যখাত, শিক্ষাখাত, সামাজিকখাত, কর্মসংস্থান ইত্যাদিকেমনহবেএবংঅন্যান্যখাতেব্যয়কাঠামোকেমনহবে, রাজস্ব আহরণ কিভাবে হবে,সেগুলোর একটাপরিস্কারদিক-নির্দেশনাথাকাউচিৎছিল।

সার্বিকভাবে, দুর্বল অনুমিতি ও বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা কোভিডকালিন বাজেট বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান; সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও সিপিডি’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, জনাব তৌফিকুল ইসলাম খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar