বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
করপোরেশনের দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত একজন সংগ্রামী নারী ব্রয়লার মুরগীর কাটা মাংস বিক্রেতার গল্প নানা আয়োজনে জয়ের জন্মদিন উদযাপন ভিকারুননিসার প্রিন্সিপালের অপসারণ চায় বিএনপি প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ আইইবির ইভ্যালিতে ১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে যমুনা গ্রুপ জনপ্রশাসন পদক পেলো ৩২ কর্মকর্তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর প্রত্যাখ্যান লকডাউনে রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৫৫৫ নারায়ণগঞ্জের মেয়র আইভিকে শান্তনা দিতে তার বাসায় শামীম ওসমান
Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১, ০৩:৩৫ PM
  • ২০১ বার পড়া হয়েছে

এবি পার্টির ওয়েবিনারে অ্যাম্বাসডার সিরাজুল ইসলাম

দুই আঞ্চলিক পরাশক্তির দোটানায় বাংলাদেশের শংকা বাড়ছে। বিভক্তির রাজনৈতিক চর্চার কারণে আমাদের বিপদ ঘনীভূত হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ১৮০ মিলিয়ন মানুষের দেশকে পদানত রাখার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারতো না।

গতকাল ১৭ জুলাই ২০২১, শনিবার এবি পার্টির উদ্যোগে “আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পরিবর্তনের সুরঃ বাংলাদেশে এর সম্ভাব্য প্রভাব” শীর্ষক একক (ভার্চুয়াল) বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। মূল বক্তা হিসেবে এতে বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক কুটনীতিক সিরাজুল ইসলাম যিনি মিশর ও জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির আহবায়ক ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী। পুরো অনুষ্ঠানটি মডারেট করেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী।

অ্যাম্বাস্যাডার সিরাজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যে ধরন ও মাত্রা ছিল তা ২০১৭ সাল থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গায় দাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচ্ছন্নভাবে সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদকে সমর্থন দেবার নীতি বাংলাদেশের জন্য যেমন সন্মানজনক ছিল না, তেমনি নীতি হিসেবে ও এটা ছিল মারাত্মক ভুল। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ সংক্রান্ত সবকিছু দিল্লীর চোখ দিয়ে দেখবার নীতির জন্য ঢাকার যেমন অস্বস্তি ছিল, তেমনি ছিল এশিয়াতে শক্তিশালী নতুন বন্ধু খুঁজে নেয়ার তাড়না।

অ্যাম্বাস্যাডার ইসলাম আরো বলেন, আফগানিস্তান থেকে রাতের আঁধারে ব্যাপক গোপনীয়তায় আমেরিকার সৈন্য প্রত্যাহারের পর প্রেক্ষাপট আরো বদলে গিয়েছে। তালিবানরা যখন কাবুল বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, তখন রাশিয়া, চীন সহ বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তিরা বেশ অস্বস্তিকর সময় কাটাচ্ছেন বটে; ব্যতিক্রম নয় দিল্লীর মোদি প্রশাসনেরও। কারন ভারত আফগানিস্তানে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে; পাশাপাশি অভিযোগ রয়েছে বেলুচ বিদ্রোহীদেরকে দিয়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনার ও চীনা স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করবার। এত কিছুর পরও ভারতের সকল পলিসি চায়নার নিকট চ্যালেঞ্জের মূখে পড়েছে। ভারতের এতো বিনিয়োগের পরেও আফগানিস্তান থেকে তাদের সব কিছু বন্ধ হবার উপক্রম। অন্য দিকে ভারতীয় বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে সামরিক জান্তার সাথে একাট্টা হবার পরেও মায়ানমারের সব কিছুই চীনাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
তিনি বলেন, ৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ যেমন ঐক্যবদ্ধ ছিল তেমন ঐক্যবদ্ধতা আজ নেই। ফলে আঞ্চলিক পরাশক্তির এই দোটানায় আমরা খুবই শংকিত। বিভক্তির রাজনৈতিক চর্চার কারণে আমরা নিজেদের গুরুত্ব হারিয়েছি। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, ভুটান ও শ্রীলংকার উদাহরণ দিয়ে বলেন ঐক্যবদ্ধ থাকলে ১৮০ মিলিয়ন মানুষের দেশকে কেউ পদানত রাখার কথা কল্পনাও করতে পারতোনা।

এবি পার্টির প্রধান উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সিরাজুল ইসলাম সাহেবের মত সফল কুটনীতিকের বক্তব্যে অনেক চ্যালেন্জের আভাস সত্বেও বাংলাদেশের জন্য আমি বরাবরের মতই আশাবাদী। এবি পার্টি কৌশলী ভূমিকার মাধ্যমে তার নীতি নির্ধারণ করবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, এশিয়ার দুই অন্যতম প্রধান শক্তির চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে বাংলাদেশের অবস্থান, লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত আফগানিস্তানে বিনিয়োগ করেছে, মায়ানমারে করেছে কিন্তু দুখঃজনক হলো বাংলাদেশের সাথে ওয়াদাকৃত বিনিয়োগ এখনো ছাড় দেয়নি। তারা বাংলাদেশে কিছু টাকা খরচ করেছে, যেখানে ট্রানজিট রুট ব্যবহার করছে সেখানে। তবে এটা নিশ্চিত দক্ষিণ এশিয়া সহ বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সৈন্য প্রত্যাহার, অস্থিতিশীল মুসলিম বিশ্ব এবং চীনের কুটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও পৃথিবীব্যাপী তাদের অবস্থান সব মিলিয়ে বিশ্ব নেতৃত্ব ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে শুধু ভাবলে চলবেনা, দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে দেশের স্বার্থ সুরক্ষায়।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, গোটা বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে অ্যাম্বাস্যাডার সিরাজুল ইসলাম এর বক্তব্য অত্যান্ত পরিস্কার। আমাদেরকে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা, অবস্থান, দেশের লাভ লোকসানের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি অংশগ্রহণকারী সকল বিদগ্ধজন কে ধন্যবাদ জানান।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষপট নিয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবিনারে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, আইনজ্ঞ ও রাজনীতিক অংশ গ্রহণ করেন। তাদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মূখ্য বক্তা।

সভার শেষ দিকে এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মন্জু জানান, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারনে ফেইসবুকে লাইভ করা সম্ভব হয়নি। সকলকে প্রশ্ন করবার সুযোগ না দিতে পারার জন্য তিনি দুখঃ প্রকাশ করেন। সর্বশেষে সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করেন প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar