শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৩৪ AM
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

সানোফির বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে: কুতুব উদ্দিন

বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্স ভিত্তিক বিখ্যাত ওষুধ কোম্পানীর চলে যাওয়ার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে দাবি করে বাংলাদেশ কেমিক্যাল এনার্জি এন্ড এলাইড ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কুতুব উদ্দিন বলেছেন, এর আগে আমাদের দেশ থেকে জার্মান ভিত্তিক ওষুধ কোম্পানী গ্লাক্সো চলে গেছে। সানোফি চলে যাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র।

রোববার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে ইকোনোমিক্স রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে সানোফি বাংলাদেশ লি. ওয়ার্কার্স-এমপ্লোয়িজ এসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুমার চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি নুরুজ্জামান রাজু, বাংলাদেশ মেটাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম মোহন, সংগঠনের অর্থ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামসহ শতাধিক সানোফির কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ওয়ার্কার্স রিসোর্স সেন্টারের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন বলেন, সানোফি বাংলাদেশে যে বিনিয়োগ করেছিল, তা এফডিআই অর্থাৎ ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট। দীর্ঘ ৬৩ বছর ধরে তারা এদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ তৈরি করে আসছিল। এ কোম্পানী সব সময়ই লাভজনক। এখনও লাভজনক। তাদের চলে যাওয়ার কোনো কারণই নেই। কিন্তু তারা বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে খোড়া যুক্তিতে। এদের ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকার কি করছে? আমরা উৎপাদনশীল দেশ থেকে কেন মার্কেটিংয়ের দেশে পরিণত হব?

উদাহরণ দিয়ে কুতুব উদ্দিন বলেন, গø্যাক্সো বাংলাদেশে বিশ্বমানের ওষুধ তৈরি করতো। কিন্তু তারা আমাদের দেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ভারতে চলে গেল। এখন ভারত ওষুধ তৈরি করে আমাদের দেশে বাজারজাত করে। আমরা তা কিনে খাই। সানোফিও বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতেই চলে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার তাদের বিনা বাধায় চলে যেতে দেবে তা হতে পারে না। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে না দেয়ায় এ কোম্পনীর বিরুদ্ধেমোট ৫৮টি মামলা আদালতে বিচারাধীন। এসব মামলা নিস্পত্তি না করে তারা যেমন আইন অনুযায়ী যেতে পারে না, তেমনি সরকারও যেতে দিতে পারে না। অথচ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের চলে যাওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যেই এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দিয়েছে। আদলতের বিচারাধীন বিষয়কে এনওসি দেয়া আদালত অবমাননা। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে ভবিষ্যতে কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে বলেও হুশিয়ারী দেন এ শ্রমিক নেতা।

সানোফি বাংলাদেশ লি. ওয়ার্কার্স-এমপ্লোয়িজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমাদের শ্রম-ঘামে সানোফি লাভজনক কোম্পানী। অথচ তারা আমাদের প্রাপ্য ন্যায্য পাওনাও দিচ্ছে না। এক্সিট বেনিফিট তো দিচ্ছেই না। তাদের কাছে আমাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইরিটির পাওনা প্রায় শত কোটি টাকা। এখনও কোম্পানীর ফান্ডে লাভের চারশত কোটি টাকা রয়েছে। অথচ আমাদের একটি টাকাও তারা দিচ্ছে না। আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা স্ত্রী-সন্তান, পরিবার নিয়ে এই বয়সে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খায়রুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন, মামুন, রেজাউল করিমসহ অনেককে চাকরিচ্যুত করেছে। আমাদের এক সহকর্মী চাকুরিচ্যুতির সংবাদ শুনে স্ট্রোক মারা গেছেন খোরশেদ আলম ভূইয়া।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মোট ৫৮টি মামলা রয়েছে সানোফির বিরুদ্ধে। যার একটিও আইনী সুরাহা হয়নি। এরপরও সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে অন্ধকারে রেখে সানোফি শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে এনওসি নিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar