শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৪৬ PM
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ : করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের কারনে দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পরে আজ রোববার থেকে খুলেছে দেশের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা এদিন তাদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসবের আমেজে প্রবেশ করে। শিক্ষকরাও নানা আয়োজনে বরণ করে নেন শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে, সহপাঠী বন্ধুদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল শিক্ষার্থীরা।
বাসস-এর নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, আজ রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢন ঢন শব্দে ঘন্টা বাজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে জেলার শিক্ষার্থীরা ফিরেছে তাদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। লেখাপড়ায় ফিরে যাওয়ার ব্যস্ততাও দেখা গেছে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

এদিন, বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশপথে মাস্ক পরা নিশ্চিত করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। এরপর সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া শেষে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। শ্রেণি কক্ষে বসানো হয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে।
জেলা সদরের পলাশবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার রায় জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরবর্তি আড়াইঘন্টায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের তিনটি এবং দুপুর ২টা থেকে পরবর্তি আড়াইঘন্টায় ২০২২ সালের এসএসসি পরীর্ক্ষীদের ক্লাশ নেওয়া হবে। অন্যান্য শ্রেণির ক্লাশ হবে সপ্তাহে একদিন করে। এজন্য রুটিন করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, নীলফামারী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজসহ প্রায় ৪৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৮০ ভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়াও, জেলায় মোট একহাজার ৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ২০৭টি, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১৭৫টি, জলঢাকায় ২৪৯টি, ডোমারে ১৫৮টি, ডিমলায় ২১৭টি সৈয়দপুরে ৭৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
বাসস-এর ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারনে দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পরে রোববার থেকে খুলেছে ঝালকাঠির ৯৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিন শিক্ষকরা নানা আয়োজনে বরণ করে নেন শিক্ষার্থীদের।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, জেলা শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশকালে জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়। পাশাপাশি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, আছে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। শিক্ষার্থীরাও মাস্ক পরে বসেছে শ্রেণিকক্ষে।
প্রসঙ্গত, ঝালকাঠি জেলায় কলেজ রয়েছে ২৭টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৭৩টি, নি¤œ মাধ্যমিক ২৪টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৮৫টি ও মাদরাসা রয়েছে ১২৩টি।

বাসস-এর মেহেরপুর সংবাদদাতা জানান, দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের পদচারনায় আবারো মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। আজ রোববার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথমদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রং-করা সহ কাগজের ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল। প্রথমদিনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর তাপমাত্রা মেপে, মাস্ক নিশ্চিত করে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করানো হয়।
শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ি, জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি-সহ মোট ৫৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রথমদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল ৭০ শতাংশ।
সদর উপজেলার আর আর এফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাহিনুজ্জামান পলেন জানান- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ থেকে শুরু করে আঙ্গিনা , প্রবেশপথ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। আজ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহাফুজুল আলম জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আগে থেকেই ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রথমদিন উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস করেছে।
বাসস-এর বগুড়া সংবাদদাতা জানান, আজ রোববার উৎসবমুখর পরিবেশে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিল শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকরাও ফুলেল শুভেচ্চা জানান শিক্ষার্থীদের।করোনায় দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর সহপাঠিদের কাছে পেয়ে তারা ছিল আনন্দে আত্মহারা।
রোববার জেলা শহরের বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ, ক্যান্টমেন্ট স্কুল ও কলেজে, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন করতে দেখা গেছে। এদিন, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে শিক্ষার্থীদের ফুলের শুভেচ্ছা জানান হয়। শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থাও ছিল। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে।
বাসস-এর দিনাজপুর সংবাদদাতা জানান, আজ রোববার প্রথমদিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার প্রায় তিনহাজার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের পদভারে প্রানচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার একহাজার ৮৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬৫১টি মাধ্যমিক স্কুল, ৯৩টি কলেজ, ২৯৬টি মাদ্রাসা ও ৫০টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রোববার প্রথমদিনে শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট উপস্থিতি ছিল। তারা জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো নিউজ

© All rights reserved © 2020 bd-bangla24.com

Theme Customized By Subrata Sutradhar